রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের ইফতার মাহফিল ও সংবাদ সম্মেলন


নাজিম আল হাসান    |    ১২:৫১ এএম, ২০২৬-০৩-১৫

রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের ইফতার মাহফিল ও সংবাদ সম্মেলন

রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় শহরের বনরূপা এলাকার বিএম শপিং কমপ্লেক্সের ৩য় তলায় অবস্থিত ক্যাফে লিংক রেস্টুরেন্টে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন রাঙ্গামাটি জেলা শাখা, সম-অধিকার যুব আন্দোলন এবং ছাত্র আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে এ ইফতার মাহফিল ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের উপদেষ্টা পরিষদের মুখপাত্র জাহাঙ্গীর কামাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন সুজন, ডি.পি.সি’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক হারুন অর রশিদ (চেয়ারম্যান) এবং সম-অধিকার যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা মাহাবুব এলাহী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, সদস্য সচিব কাজী মো. জালোয়া সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ছগির আহমদ, সম-অধিকার যুব আন্দোলনের রাঙ্গামাটি জেলার আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান খান, পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর বাদশা এবং সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহীন আলম।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে সর্বশেষ সরাসরি জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে।

এরপর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিষদ গঠিত হয়েছে নিয়োগ বা মনোনয়নের মাধ্যমে। অথচ জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব না থাকায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা দুর্বল হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়েছে।

একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করা হলে পাহাড়ে আস্থা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

এ সময় বক্তারা শিক্ষক নিয়োগসহ শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য অঞ্চলের সকল জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১ সংশোধন করে স্থানীয় বাঙালি প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত ভূমি জরিপ সম্পন্ন করতে হবে।

পাশাপাশি এখানে বসবাসরত সকল নাগরিকের জন্য সরকারের প্রতিশ্রুত ভূমি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমি রেজিস্ট্রেশন জটিলতা নিরসনে তথাকথিত হেডম্যান প্রথা বাতিল করে প্রতিটি ইউনিয়নে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস স্থাপনের দাবিও জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বাজার ফান্ড আইনের আওতায় বাজার ফান্ড প্রশাসক দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ও আবাসিক জমির বন্দোবস্ত, ইজারা, হস্তান্তর, বিক্রয় ও বন্ধক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও ২০১৯ সাল থেকে অজ্ঞাত কারণে এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।\

ফলে পার্বত্য জেলার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তাই বাজার ফান্ডের ভূমি সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল নাগরিকের সর্বক্ষেত্রে সমঅধিকার নিশ্চিত করা।
২. ভূমি জরিপের মাধ্যমে সকল নাগরিকের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বক্ষেত্রে সাংবিধানিক আইন কার্যকর করা।
৪. খুন, গুম ও অগ্নিসংযোগসহ সকল ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা।
৫. সকল বৈষম্যমূলক প্রথা বিলুপ্ত করে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠান শেষে সম-অধিকার আন্দোলনের জেলা কমিটির ধর্ম বিষয়ক সদস্য হাফেজ মুহাম্মদ আনিস দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।