সাজেকে রুম না পেয়ে দিশেহারা পর্যটক, বাড়ছে ভোগান্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১২:১১ পিএম, ২০২৬-০৩-২৫

সাজেকে রুম না পেয়ে দিশেহারা পর্যটক, বাড়ছে ভোগান্তি

ঈদের টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে সাজেক ভ্যালি-তে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় সৃষ্টি হওয়ায় তীব্র আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে।

আগাম বুকিং ছাড়া সেখানে পৌঁছানো অসংখ্য পর্যটক রিসোর্ট বা কটেজে জায়গা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অনেকেই বাধ্য হয়ে বারান্দা, স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি, ক্লাবঘর, এমনকি খোলা জায়গা ও রাস্তার পাশেও রাত কাটাচ্ছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা-এর অন্তর্গত এই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষের আগমন ঘটেছে।

ফলে সাজেকের প্রায় সব রিসোর্ট ও কটেজ পূর্ণ দখলে রয়েছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মোট প্রায় ১১১টি রিসোর্ট-কটেজ রয়েছে এবং ২২ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সবগুলোই শতভাগ বুকড।

সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক পর্যটক সাজেকে আসছেন, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাজেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষের রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।

কিন্তু ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন এই সীমার চেয়েও বেশি পর্যটক সেখানে ভিড় করছেন, ফলে আবাসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।

বাঘাইহাট সেনা জোনের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যটক সাজেক ভ্রমণ করেছেন।

এর আগের দিন সোমবার প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পর্যটক সেখানে গিয়েছিলেন, যা স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতি এড়াতে ভ্রমণের আগে অবশ্যই আগাম বুকিং নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিকল্প হিসেবে খাগড়াছড়ি শহর-এ অবস্থান করে পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজেক ভ্রমণ করলে ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব।

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ জানান, ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে পর্যটকের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

সব কটেজ পূর্ণ থাকায় যাদের বুকিং নেই, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, শুধু আবাসন নয়, পরিবহন খাতেও সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সমস্যার কারণে অনেক যানবাহন সাজেকগামী হতে পারছে না, ফলে অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ি থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিশাত রায় বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা টহল জোরদার করা হয়েছে।

ছুটির সময় বাড়তি ভিড় সামাল দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং জরুরি সেবাসমূহ সচল রাখা হয়েছে।

সার্বিকভাবে, ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সাজেক ভ্যালির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে।