রাঙামাটির তরুণ শাওন এখন জাতীয় অঙ্গনে আলোচিত সাহিত্যিক


মেহেদী হাসান    |    ১১:৪৫ পিএম, ২০২৬-০৩-২৭

রাঙামাটির তরুণ শাওন এখন জাতীয় অঙ্গনে আলোচিত সাহিত্যিক

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার তরুণ কবি, লেখক ও সাংবাদিক মোঃ নাজমুল হোসাইন শাওন তার ব্যতিক্রমধর্মী লেখনী ও সাহসী চিন্তাধারার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই সাহিত্যাঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সমাজের নানা অসঙ্গতি, অধিকারবঞ্চনা ও সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে তার নির্ভীক লেখালেখি তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।

শাওনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাঙামাটির লংগদু উপজেলায়। তিনি ২০০৫ সালে গাঁথাছড়া আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এরপর মাইনীমুখ মডেল হাই স্কুল থেকে জেএসসি (২০১৫) ও এসএসসি (২০১৯) সম্পন্ন করেন। লংগদু সরকারি মডেল ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি (২০২১) শেষ করে বর্তমানে সিযক কলেজে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন।

একটি শিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা শাওনের পিতা ইসমাইল হোসেন এবং মাতা নাজমা আক্তার—দুজনই শিক্ষক। পরিবার থেকেই তিনি শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চার প্রেরণা পেয়েছেন বলে জানা যায়।

অল্প বয়সেই শাওন অর্জন করেছেন বিস্ময়কর সাফল্য। এ পর্যন্ত তিনি ১৯৮টি সম্মাননা সনদ লাভ করেছেন, যার মধ্যে ৯৮টি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের। এছাড়াও তার ঝুলিতে রয়েছে ১৯টি সম্মাননা ক্রেস্ট, ২টি সম্মানজনক মেডেল এবং ৩টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড—মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড (২০২৫), ইশা খাঁ অ্যাওয়ার্ড (২০২৬) এবং একুশে গ্লোবাল আইকনিক অ্যাওয়ার্ড (২০২৬)।

তার অর্জনের তালিকায় আরও রয়েছে “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম পদক” ও “গুণীজন সম্মাননা পদক”। পাশাপাশি কবি জীবনানন্দ দাশের নামে দুইটি সম্মাননা সনদ এবং বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) থেকেও সম্মাননা অর্জন করেছেন তিনি।

লেখালেখির ক্ষেত্রেও শাওনের পদচারণা ব্যাপক। তিনি এ পর্যন্ত ১,৮৭৬টিরও বেশি ভিন্ন বিষয়ের ওপর লিখেছেন। তার লেখার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে আসে বাঙালির অধিকার, সামাজিক অবক্ষয়, সহিংসতা ও বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইস্যু।

ইতোমধ্যে তার ২২টি যৌথ বই প্রকাশিত হয়েছে। আসন্ন ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় তার লেখা ২২টি বই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে মোট ১০২টি লেখা স্থান পাবে।

সাহিত্য ও সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে নিজের কলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছেন এই তরুণ লেখক। স্থানীয়দের মতে, মোঃ নাজমুল হোসাইন শাওনের এই ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা শুধু রাঙামাটির জন্য নয়, দেশের সাহিত্যাঙ্গনের জন্যও একটি গর্বের বিষয়।