টিকা ঘাটতি ও অনীহায় বাড়ছে হাম, দেশে অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০৮:৪৩ পিএম, ২০২৬-০৩-৩০

টিকা ঘাটতি ও অনীহায় বাড়ছে হাম, দেশে অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু

বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাসজনিত রোগ। চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে শুধু চলতি মাসেই মারা গেছে ৩২ শিশু।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হামের সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণ (এনসেফালাইটিস) হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। মূলত রোগের জটিলতার চিকিৎসাই করা হয়। তিনি জানান, আক্রান্ত শিশুদের চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে ভিটামিন–এ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. রিয়াজ মোবারক জানিয়েছেন, এবারের সংক্রমণে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও হাম দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণত খুব কম ঘটে। তিনি বলেন, মায়েরা যদি আগে হাম বা এমআর টিকা না নিয়ে থাকেন, অথবা শিশুর নির্ধারিত সময়ে টিকা না হয়, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ।

ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, প্রথম ডোজের টিকা নেওয়ার হার ভালো হলেও অনেক ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ডোজ নিতে অনীহা দেখা যায়। এছাড়া কিছু ছোট গোষ্ঠী বা ‘পকেট কমিউনিটি’ আছে যেখানে শিশুরা টিকা নেয় না, সেখান থেকেই অনেক সময় সংক্রমণ ছড়ায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, সাধারণত প্রতি চার বছর পরপর একটি বিশেষ হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। সর্বশেষ এই কর্মসূচি ২০২০ সালে হয়েছিল। দেশের পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালে নতুন ক্যাম্পেইন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘটের কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিও কয়েকবার ব্যাহত হয়। নিয়মিত ভিটামিন–এ ও কৃমিনাশক কর্মসূচি না হওয়ায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমেছে, যা সংক্রমণ বাড়ার আরেকটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হামের টিকার মজুদ প্রায় শেষ, মাঠ পর্যায়ে মাত্র এক মাসের মতো সরবরাহ রয়েছে। তবে আসন্ন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় টিকা ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদুল আজহার আগে বা পরে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে।

এদিকে হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীর মহাখালীর ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৬০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যেখানে গত বছর পুরো সময়ে ছিল মাত্র ৬৯ জন।