নাইক্ষ্যংছড়িতে গর্তে পড়ে বাচ্চা হাতির মৃত্যু, লোকালয়ে ঢুকে বিপর্যয়


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০১:১৮ এএম, ২০২৬-০৪-০৩

নাইক্ষ্যংছড়িতে গর্তে পড়ে বাচ্চা হাতির মৃত্যু, লোকালয়ে ঢুকে বিপর্যয়

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের মারাগ্য পাড়া এলাকায় গর্তে পড়ে একটি বাচ্চা হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

লোকালয়ে প্রবেশ করা হাতির পাল মানুষের তাড়া খেয়ে বনে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ঘটনাটি ঘটলেও বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয়রা বলেন, কয়েকদিন ধরে একটি হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ছিল এবং মানুষের তাড়া খেয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। পালটি গহীন পাহাড়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় মারাগ্য পাড়ার পশ্চিম পাশে মংবেছা মেম্বারের গোদার পাড় এলাকায় একটি গর্তে বাচ্চা হাতিটি পড়ে যায়।

তারা আরো বলেন, গর্তে পড়ার পরও মা হাতি আশপাশে অবস্থান করায় আতঙ্কে কেউ উদ্ধার কাজে এগিয়ে যেতে পারেনি। পরদিন বুধবার বিকেলে মা হাতিটি শাবকটিকে টেনে মারাগ্য পাড়া খালে নিয়ে আসে। তবে ততক্ষণে বাচ্চা হাতিটির মৃত্যু হয়। পরে হাতির পালটি আবার পাহাড়ের ভেতরে চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছু সময় মা হাতিটিকে মৃত শাবকের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়, যা উপস্থিত সবার মনে গভীর বেদনার সৃষ্টি করে।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ডাক্তার ছ্যালা থোয়াই মারমা বলেন, “মানুষের চাপে হাতির পাল দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। গর্তে পড়ে যাওয়ার পরও মা হাতির কারণে কেউ এগিয়ে যেতে পারেনি।”

নাইক্ষ্যংছড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চা হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বনভূমি উজাড় করার ফলে হাতির স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। খাদ্য সংকটে হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “পাহাড় ও বনভূমি রক্ষা করা না হলে ভবিষ্যতে মানুষ-হাতি সংঘাত আরও বাড়বে, যা বড় ধরনের প্রাণহানি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।”

স্থানীয়রা দ্রুত অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ, বন সংরক্ষণ জোরদার এবং হাতির নিরাপদ চলাচলের করিডোর নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।