রংধনু জাতি গঠনে সম্প্রীতির বার্তা, সবার আগে বাংলাদেশ : মীর হেলাল উদ্দীন


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৭:৫৭ পিএম, ২০২৬-০৪-১২

রংধনু জাতি গঠনে সম্প্রীতির বার্তা, সবার আগে বাংলাদেশ : মীর হেলাল উদ্দীন

রাজধানী ঢাকা-তে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভায় সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার বার্তা উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

রোববার সকালে বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি রমনা পার্ক-এ গিয়ে শেষ হয়।

র‍্যালিতে বিভিন্ন পার্বত্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, অতীতে “বৈসাবি” নামকরণের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল।

বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচয় ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, এখন থেকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান নিজ নিজ নামে উদযাপিত হবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সমান মর্যাদা পাবে।

অন্যদিকে, বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনা ধারণ করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি “রংধনু জাতি” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে সকল জাতিগোষ্ঠী সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবে।

তিনি আরও বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ—এই নীতি ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকায় বসবাসরত তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

র‍্যালি শেষে রমনা পার্ক-এর লেকে ‘বিজু ফুল’ অর্পণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এই আয়োজন পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।