খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির


খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি    |    ১২:১০ এএম, ২০২৬-০৪-১৭

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির

দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এক বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির ও মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দিনব্যাপী এই ক্যাম্পটি পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোন।

মানিকছড়ি রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই ক্যাম্পে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে ভিড় জমান।

ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১,৫০০ জন রোগীকে সাধারণ চিকিৎসা ও চক্ষু সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়।

দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য এই উদ্যোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ তাদের অনেকেই অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন না।

প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চোখের ছানি শনাক্ত হওয়া ১০০ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তাদের পরবর্তীতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি আগত রোগীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও চক্ষু রোগীদের জন্য বিশেষ চশমা ও চোখের ড্রপ সরবরাহ করা হয়, যা রোগীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে উপকার বয়ে আনে।

মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সিন্দুকছড়ি জোন স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।

ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক।

এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর আস্থা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।