পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রামের প্রতিবাদে সিএইচটির বিবৃতি


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৫:৩৪ পিএম, ২০২৬-০৪-১৭

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রামের প্রতিবাদে সিএইচটির বিবৃতি

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রতিবাদে সকল আঞ্চলিক সংগঠনকে অস্ত্রধারী রাজনীতি, চাঁদাবাজি, গুম, অপহরণ ও খুনের মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহারের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মুখপাত্র পাইশিখই মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি বৈচিত্র্যময় অঞ্চল, যেখানে বহু জাতিসত্তা, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ যুগ যুগ ধরে সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি অনন্য সামাজিক বন্ধন গড়ে তুলেছে। এই অঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলেও একটি গোষ্ঠীর স্বার্থকেন্দ্রিক সশস্ত্র রাজনীতি, আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা এবং অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে আসছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কৃষক পর্যন্ত কেউই সশস্ত্র সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের আতঙ্ক থেকে নিরাপদ নন। এর ফলে পুরো অঞ্চলে ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

সংগঠনটি আরও জানায়, সহিংসতার এই চক্র অব্যাহত থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি অনিশ্চিত ও অন্ধকার ভবিষ্যতের মুখোমুখি হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগসহ সব খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে এ অঞ্চলের জনগণ তাদের ন্যায্য উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পাইশিখই মারমা বলেন, অস্ত্রের মাধ্যমে কখনোই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বরং এটি সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করে এবং নতুন সংকটের জন্ম দেয়। তাই সকল আঞ্চলিক সংগঠনকে অবিলম্বে সহিংসতার পথ পরিহার করে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও আইনানুগ পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সকল জাতিসত্তার মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকে সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, “পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। সহিংসতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে।”