জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, নিরাপত্তা চেয়ে জিডি ব্যবসায়ীর


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:১০ পিএম, ২০২৬-০৪-২৩

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, নিরাপত্তা চেয়ে জিডি ব্যবসায়ীর

রাঙামাটির বরকল উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুষণছড়া ইউনিয়নের হরিণা বাজারের ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন।

মামলায় আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি হলেন কলাবুনিয়া গ্রামের মো. নূর হোসেন (৩৪)। অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম বরকল উপজেলার দক্ষিণ এরাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তারা ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হককে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন এবং তার ব্যবসায়িক সুনাম ও পারিবারিক মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল রাত থেকে আসামিরা নিজেদের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বাদীর বিরুদ্ধে একাধিক মানহানিকর পোস্ট দিতে শুরু করেন। সেখানে তাকে কখনও চোরাকারবারি, কখনও অবৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সীমান্তে প্লাস্টিক পণ্য, গ্যাস সিলিন্ডার ও সেগুন কাঠ পাচারের মতো অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

বাদীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, ১০ লাখ টাকা না দিলে ভবিষ্যতেও ভুয়া ও নামে-বেনামে ফেসবুক আইডি খুলে একই ধরনের পোস্ট করে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করা হবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে মামলা দায়েরের পর নিজের নিরাপত্তা চেয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) বরকল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার বিষয়টি জানার পর আসামিরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছেন।

বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “মোজাম্মেল হক নিজের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবদুল আলিম বলেন, “যদি সত্যিই চাঁদা চাওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই শাস্তি হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”

মামলার বিষয়ে অভিযুক্ত মো. রবিউল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।