রাঙামাটির বরকলে জামায়াত নেতার সংবাদ সম্মেলন: ‘মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের’ অভিযোগ।


মেহেদী হাসান    |    ০৫:২৬ পিএম, ২০২৬-০৪-২৫

রাঙামাটির বরকলে জামায়াত নেতার সংবাদ সম্মেলন: ‘মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের’ অভিযোগ।

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে ষড়যন্ত্রমূলক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরকল উপজেলান শাখার সেক্রেটারি মোঃ রবিউল ইসলাম।

শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় রাঙামাটি শহরের ইসলামিক সেন্টার পাঠাগারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৩ এপ্রিল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির মামলা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর। তার দাবি, এটি কোনো চাঁদাবাজির মামলা নয়; বরং ছোট হরিনার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে তার এবং এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম মামলার প্রকৃতি যাচাই না করেই সেটিকে ‘চাঁদাবাজির মামলা’ হিসেবে প্রচার করেছে, যার ফলে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রবিউল ইসলাম বলেন, সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল সাংবাদিকরা তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাননি। অথচ একটি টিভি চ্যানেলের রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধির সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত কথা হয়েছে এবং তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছিলেন। 

কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই বক্তব্য সংবাদে স্থান পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মামলায় তাকে ও অপর আসামিকে বাদীর একই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার স্থায়ী ঠিকানা চট্টগ্রামের চন্দনাইশের সাতকানিয়ায়।

তিনি আরও জানান, বাদী মোজাম্মেল হকের সঙ্গে তার একসময় ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি নিজেকে সেই ব্যবসা থেকে সরিয়ে নেন। এরপর থেকেই একটি মহল তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করে আসছে বলে দাবি করেন।

রবিউল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় অবৈধ চোরাচালান ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সোচ্চার থাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রতিশোধমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং মিডিয়া ট্রায়াল পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।