সড়কহীন পথে চেয়ারে বসিয়ে রোগী পরিবহন, বরকলের নির্মম বাস্তবতা


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০৪:১৪ পিএম, ২০২৬-০৪-২৬

সড়কহীন পথে চেয়ারে বসিয়ে রোগী পরিবহন, বরকলের নির্মম বাস্তবতা

রাঙামাটি জেলার দুর্গম ও দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদ বরকল উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নে এবার ঐক্যবদ্ধ দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সমন্বিত কণ্ঠে উঠেছে উন্নত সড়ক যোগাযোগ, কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বরকল উপজেলা এখনো আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। বিশেষ করে উপজেলা সদরের সঙ্গে আইমাছড়া, ভূষণছড়া, বড় হরিণা ও সুবলং ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্থানীয়দের মতে, উপজেলা সদরের সঙ্গে চার ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করেও রয়েছে আরেকটি বড় দাবি। নদীতীরবর্তী এই উপজেলার মানুষের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম নৌপথ হলেও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হলে জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে এবং পণ্য পরিবহন ব্যয়ও কমে আসবে।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বরকলবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। উপজেলায় আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় জটিল রোগীদের রাঙামাটি সদর কিংবা চট্টগ্রামে নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। একই সঙ্গে দুর্গম অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি আধুনিক হাসপাতাল এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, বরকলের উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দাবি নয়, এটি এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকার। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় এক প্রতিনিধি বলেন, “বরকলের উন্নয়ন মানেই রাঙামাটির সমৃদ্ধি। আমরা চাই দ্রুত সড়ক নির্মাণ, নদী ড্রেজিং, হাসপাতাল ও বিদ্যুতায়ন। অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।”