পাহাড়ে আবারও সক্রিয় সিগারেট চোরাকারবারি চক্র! রাজস্থলী সীমান্তে বাড়ছে পাচার


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৭:৪১ পিএম, ২০২৬-০৪-২৬

পাহাড়ে আবারও সক্রিয় সিগারেট চোরাকারবারি চক্র! রাজস্থলী সীমান্তে বাড়ছে পাচার

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে আবারও বিদেশি (ভারতে তৈরি) সিগারেট পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে সেনাবাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেটসহ চারজনকে আটক করে। ওই ঘটনার পর কিছুদিন চোরাচালান কার্যক্রম কমে গেলেও সম্প্রতি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাচারকারী চক্র।

গত শনিবার গভীর রাতে সীমান্ত সড়ক ব্যবহার করে সেনা ক্যাম্প ও বিজিবি ক্যাম্পকে ফাঁকি দিয়ে গোপন পথে বিপুল পরিমাণ সিগারেট পাচার করা হয়। পরে বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় কিছু লোকের নজরে এলে তারা একটি গাড়িসহ সিগারেট আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, পরে রাতভর দরকষাকষির মাধ্যমে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সিগারেটগুলো রাইখালি ইউনিয়নের ডকনালাপাড়া হয়ে রাঙ্গুনিয়ার কোদালা ও সরফভাটা এলাকায় পাচার করা হয়, যা চন্দ্রঘোনার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই রাতে অন্তত ৪০ লাখ টাকার সিগারেট রাজস্থলীর চিংখ্যংপাড়া হয়ে লংগদুর নাইক্যছড়া সড়ক দিয়ে বাঙ্গালহালিয়ায় প্রবেশ করে এবং এর বড় অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর নজর এড়িয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ চোরাচালান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে রাজস্থলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন বলেন, “ভারতীয় অবৈধ সিগারেটসহ যেকোনো চোরাইপণ্য বাজারজাত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব পণ্য বাজারে পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাঙ্গালহালিয়া বাজারে গভীর রাত পর্যন্ত কিছু ব্যক্তি অবস্থান করে অবৈধ কাঠ, সিগারেট ও বালুবাহী যানবাহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। তারা সতর্ক করে বলেন, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে রাজস্থলী ভবিষ্যতে চাঁদাবাজির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।