রাবিপ্রবিতে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উদযাপন


আলমগীর মানিক    |    ১২:০১ এএম, ২০২৬-০৪-২৭

রাবিপ্রবিতে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উদযাপন

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “মেধাস্বত্ব ও ক্রীড়া: প্রস্তুত, শুরু, উদ্ভাবন”।

সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালি শেষে একাডেমিক ভবন-১-এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান নিশ্চয়ন সেলের অতিরিক্ত পরিচালক (ইটিএল) ড. মো. আবু তালেব।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান নিশ্চয়ন সেলের অতিরিক্ত পরিচালক (কিউএ) ড. তানজিম মাহমুদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে বিশ্বব্যাপী অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস উদযাপনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মৌলিক গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের গবেষণার মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

এতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও ঐতিহ্যবাহী সম্পদ এখনো পেটেন্টের আওতায় আসেনি, যা দ্রুত নিবন্ধন করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বাগত বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন বলেন, মেধাস্বত্ব অধিকার উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এবং সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি প্রযুক্তি, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, খেলাধুলা ও গবেষণাক্ষেত্রে সৃষ্টিশীল ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি খেলাধুলা খাতে মেধাস্বত্বের অর্থনৈতিক গুরুত্বও তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধে ড. মো. আবু তালেব বাংলাদেশের কপিরাইট আইন, পেটেন্ট ব্যবস্থা, পেটেন্ট নিবন্ধন প্রক্রিয়া, আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা এবং World Intellectual Property Organization-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে মেধাস্বত্বের সুরক্ষা ও আদান-প্রদানের জন্য শক্তিশালী আইনগত কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ জুনাইদ কবির মেধাস্বত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে কপিরাইট, পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

তিনি ডিজিটাল যুগে সৃজনশীল কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৬ এপ্রিল World Intellectual Property Organization-এর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস উদযাপিত হয়।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, যার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।

সংস্থাটি পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক ও কপিরাইটসহ বিভিন্ন মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে এবং পেটেন্ট সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবকদের সহায়তা প্রদান করে।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।