বাঘাইছড়িতে বোরো ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক, শঙ্কায় বাজার ও আবহাওয়া


ওমর ফারুক সুমন    |    ০৩:১৫ পিএম, ২০২৬-০৪-২৭

বাঘাইছড়িতে বোরো ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক, শঙ্কায় বাজার ও আবহাওয়া

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বোরো ধান কাটার ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে এই সম্ভাবনার মাঝেও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং বাজারে ধানের অস্থির মূল্য কৃষকদের মনে দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন সন্তোষজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর আলম জানান, “এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এ সময় ঝড়, অতিবৃষ্টি কিংবা শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তাই কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের উৎপাদন ভালো হলেও ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি কিংবা শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তাদের আশঙ্কা, এই সময় বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে মাঠের পাকা ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এছাড়া, চলতি মৌসুমে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

সেচ, সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

কিন্তু বাজারে ধানের দাম সেই অনুপাতে না বাড়ায় লাভ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তা না হলে ভবিষ্যতে কৃষকদের চাষাবাদে আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠে এখন সোনালি ফসলের হাসি ফুটলেও, সেই হাসি ধরে রাখতে অনুকূল আবহাওয়া এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।