পাহাড়ে ফের ভাতৃঘাতি সংঘাতের আশঙ্কা! রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যা


আলমগীর মানিক    |    ০৯:৩৮ এএম, ২০২৬-০৫-০৯

পাহাড়ে ফের ভাতৃঘাতি সংঘাতের আশঙ্কা! রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যা

আলমগীর মানিক

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার শুকনাছড়া জোড়া ব্রিজ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে হেগেরা চাকমা ওরফে লেত্তবাপ (৫০) নামে এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পাহাড়ে নতুন করে ভাতৃঘাতি সংঘাতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক কাজে মারিশ্যা জোড়া ব্রিজ এলাকায় অবস্থানকালে হেগেরা চাকমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে সকালে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ইউপিডিএফের অভিযোগ, তথাকথিত ‘ঠ্যাঙাড়ে মুখোশ বাহিনী’র কমান্ডার বর্ণ চাকমা ও আশীষ ত্রিপুরার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল এই হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে চলমান আধিপত্য বিস্তার, প্রতিশোধ এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, গতকাল দীঘিনালায় এক সমাবেশে বর্ণ চাকমা প্রকাশ্যে পানছড়ির মো. ইমন হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোরে ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা নিহত হওয়ায় ঘটনাটিকে পরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হামলা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভাতৃঘাতি সংঘাত চলমান রয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় প্রায়ই গুলি, অপহরণ, হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর শুকনাছড়া, মারিশ্যা ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইউপিডিএফ এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।