রাজস্থলীতে স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগে মামলা


রাজস্থলী প্রতিনিধি    |    ০৯:৫৩ পিএম, ২০২৬-০৫-১৫

রাজস্থলীতে স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগে মামলা

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের এক মারমা স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলা দায়েরের আবেদন করেছেন ভিকটিমের পরিবার।

নিখোঁজ স্কুলছাত্রী খ্যানুউ মারমা (১৫) স্থানীয় কুন্ডেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা গেছে।

ভিকটিমের মা নুম্রসিং মারমা স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা ও ঈদুল ফিতরের ছুটিতে খ্যানুউ মারমা নিজ বাড়িতে বেড়াতে আসে।

ওই সময় স্থানীয় আরচ তালুকদার ও তার সহযোগী আলাউদ্দিন বিভিন্নভাবে তাকে উত্যক্ত ও প্রলোভন দেখাতে শুরু করে।

পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগে বলা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ মার্চ প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত আরচ তালুকদার পথরোধ করে খ্যানুউ মারমাকে কুপ্রস্তাব দেন।

এ ঘটনায় পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে দাবি পরিবারের।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল সকালে খ্যানুউ মারমাকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবা পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে কেনাকাটা করতে যান।

একপর্যায়ে মেয়েকে দোকানের বাইরে রেখে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে মেয়েকে আর সেখানে দেখতে পাননি। পরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় পরদিন ২১ এপ্রিল রাউজান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। যার নম্বর—১১৫৫।

ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানায়, মেয়েটিকে খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বিকাশে ৫ হাজার টাকা পাঠালে মেয়েটির অবস্থান জানানো হবে বলেও প্রলোভন দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

পরিবার আরও দাবি করেছে, সম্প্রতি ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা পরিবারকে আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আরচ তালুকদারের বয়স প্রায় ৫০ বছর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বিষয়টি ঘিরে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।

তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ভিকটিমের পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত খ্যানুউ মারমাকে উদ্ধার করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, “মারমা তরুণীর পরিবার আদালতে মামলা করেছে।

মামলা অনুযায়ী আসামিদের শনাক্ত এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”