রাঙ্গামাটিতে শিক্ষায় নতুন দিগন্ত: মোনঘরে চালু হলো জাপানি ‘কুমন’ পদ্ধতি


আলমগীর মানিক    |    ০১:০৬ এএম, ২০২৬-০৫-১৭

রাঙ্গামাটিতে শিক্ষায় নতুন দিগন্ত: মোনঘরে চালু হলো জাপানি ‘কুমন’ পদ্ধতি

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাঙ্গামাটিতে প্রথমবারের মতো চালু হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাপানি “কুমন” শিখন পদ্ধতি। মোনঘর আবাসিক বিদ্যালয় ও কলেজে এ কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুমন লার্নিং সেন্টারের উদ্বোধন করেন।

পরে মোনঘরের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথেরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ডাইনিং হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমইউএফজি ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিমুরা কেনজি, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ভপেশ চাকমা, এমইউএফজি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম কিবরিয়া, ব্র্যাক কুমন লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার নেহাল বিন হাসান এবং জাইকা বাংলাদেশের স্পেশাল অ্যাডভাইজার কিয়োশি আমাদা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মোনঘরের মহাসচিব কীর্তি নিশান চাকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, কুমন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে তাদের এগিয়ে রাখবে। তিনি বলেন, “শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, নিশ্চিত করতে হবে মানসম্মত শিক্ষা। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে মোনঘর দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এবং এটি এখন একটি “বাতিঘর”-এ পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ব্র্যাক কুমন লিমিটেড ও মিতসুবিশি ইউনাইটেড ফাইন্যান্স গ্রুপ ব্যাংক লিমিটেডের সহযোগিতায় এই শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষার্থীকে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে কুমন প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। এদের অধিকাংশই দরিদ্র জুমচাষি পরিবারের সন্তান।

বিশ্বের ৬২টিরও বেশি দেশে জনপ্রিয় কুমন পদ্ধতিতে স্বশিক্ষণ, প্রতিদিনের অনুশীলন, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাধীনভাবে শেখার দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের বিশ্বাস, এই কাঠামোবদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের মৌলিক দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের শেষে মোনঘর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জাপানি ভাষা কোর্সে এন-৫ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।