থানচিতে দুঃসাহসিক অভিযান: অপহৃত ঠিকাদার উদ্ধার, আটক অপহরণকারী


থানচি প্রতিনিধি    |    ১০:২৯ পিএম, ২০২৬-০৫-২৩

থানচিতে দুঃসাহসিক অভিযান: অপহৃত ঠিকাদার উদ্ধার, আটক অপহরণকারী

বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলায় দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক ঠিকাদারকে জীবিত উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

একই অভিযানে মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা উদ্ধারসহ অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিবির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফল অভিযান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মো. আমু হোসেন (৫০)-কে গত ২১ মে স্থানীয় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

পরে অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা তার জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত অর্থ দিতে বাধ্য হন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেনের নির্দেশনায় একটি বিশেষ আভিযানিক দল মাঠে নামে।

জোনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুট্যান্ট সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং টানা নজরদারির মাধ্যমে গভীর রাতে থানচির বিদ্যামনিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের একপর্যায়ে অপহৃত ঠিকাদার মো. আমু হোসেনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্য মাংলে ম্রোকে আটক করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, থানচি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।

পর্যটনসমৃদ্ধ থানচিকে নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে কোনো ধরনের সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।