দুর্গম পাহাড়ে আনসার ব্যাটালিয়নে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাড়ছে অপারেশনাল সক্ষমতা


আলমগীর মানিক    |    ১১:৫৪ পিএম, ২০২৬-০৫-২৩

দুর্গম পাহাড়ে আনসার ব্যাটালিয়নে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাড়ছে অপারেশনাল সক্ষমতা

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ছয়টি আনসার ব্যাটালিয়নে উচ্চগতির স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের কার্যক্রম আরও গতিশীল, সমন্বিত ও কার্যকর করতে এই আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বাহিনীর সদস্যরা এখন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ সুবিধার আওতায় আসছেন। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা সীমিত থাকায় দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতো সদস্যদের।

সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরাসরি স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

প্রাথমিক পর্যায়ে বান্দরবান আনসার ব্যাটালিয়ন (১০ বিএন), রুমা আনসার ব্যাটালিয়ন (১৬ বিএন), শুভলং আনসার ব্যাটালিয়ন (২৪ বিএন), মারিশ্যা আনসার ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিএন), ছোটমেরুং আনসার ব্যাটালিয়ন (১৪ বিএন) এবং লংগদু আনসার ব্যাটালিয়ন (৩২ বিএন)-এ এই আধুনিক স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য ব্যাটালিয়নেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে অংশ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাহিনীর প্রযুক্তিগত রূপান্তর পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বাহিনীর “সংস্কার পরিকল্পনা ও ভিশন-২০৩৫”-এর প্রশংসা করে বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বাহিনীর একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার-ভিডিপির বহুমাত্রিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও গভীর দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে একটি “প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক ও সামাজিক বাহিনী” হিসেবে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠবে।

স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে গঠিত হয়েছিল ‘আনসার ব্যাটালিয়ন’।

তার দূরদর্শী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশের ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়ন—যার মধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে ১৬টি এবং সমতলে ৩১টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে—অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, পার্বত্য অঞ্চলে যৌথ অভিযান পরিচালনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ, সচিবালয়, বিমানবন্দর, বিদেশি দূতাবাস এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ভিভিআইপি প্রটোকল প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন এই স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর ফলে এখন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বাহিনী সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

এতে বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত সদস্যরা এখন পরিবারের সঙ্গে সহজে ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ রাখতে পারায় তাদের মানসিক স্বস্তি ও মনোবলও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে তারা আরও আত্মবিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করতে পারছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।