রাঙামাটির গরুর হাটে চড়া দাম, বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা


মেহেদী হাসান    |    ১১:০৭ পিএম, ২০২৬-০৫-২৪

রাঙামাটির গরুর হাটে চড়া দাম, বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাঙামাটি পৌর ট্রাক টার্মিনালজুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে আসছেন এই হাটে।

তবে বাজারে গরুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য কোরবানির পশু কেনা যেন একপ্রকার দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি। মাঝারি আকারের একটি গরুর দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় একই আকারের গরুর দাম এবার কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে অনেকেই পছন্দের গরু কিনতে না পেরে হতাশ হয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

হাটে গরু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, কোরবানির জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিলেও এবার বাজারে এসে তারা দামের চাপে হতবাক।

তাদের ভাষ্য, সংসারের অন্যান্য খরচ সামলাতে গিয়ে এমনিতেই চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। তার ওপর গরুর অতিরিক্ত দাম সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, গরুর দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে পরিবহন ব্যয়, হাসিল এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত খরচের চাপ।

অনেক ব্যবসায়ী জেলার দুর্গম এলাকা ও মাইনী বাজার থেকে গরু কিনে নদীপথে বোটের মাধ্যমে রাঙামাটিতে নিয়ে আসছেন। এতে পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এছাড়া হাটে প্রবেশের সময় হাসিল, পৌরসভার ট্যাক্স এবং আনুষঙ্গিক খরচ বহন করতে হয়। সব মিলিয়ে লাভের চেয়ে খরচই বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।

বিক্রেতারা আরও জানান, গরু লালন-পালনে খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ও আগের তুলনায় বেড়েছে। খামার পরিচালনা করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই বেশি দামে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।

তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কম দামে গরু বিক্রি করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

এদিকে হাটে প্রচুর গরু উঠলেও ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে দরদাম নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দরদাম করেও অনেক ক্ষেত্রে মিলছে না সমাধান।

কেউ দাম কমাতে রাজি নন, আবার ক্রেতারাও অতিরিক্ত দামে গরু কিনতে অনাগ্রহী। ফলে হাটজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অচলাবস্থা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অতিরিক্ত হাসিল ও পরিবহন ব্যয় কমানো গেলে বাজারে গরুর দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে বাজারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, প্রশাসনের কার্যকর তদারকি থাকলে অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে।

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে রাঙামাটির পশুর হাট। তবে বাড়তি দামের কারণে এখনো অনেক ক্রেতা রয়েছেন অপেক্ষায়। শেষ সময়ে দাম কিছুটা কমবে— এমন আশাতেই দিন গুনছেন তারা।