প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে অবৈধ আইসক্রিম কারখানা, ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল


আজগর আলী খান    |    ০৮:৩৫ পিএম, ২০২৬-০৫-২৫

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে অবৈধ আইসক্রিম কারখানা, ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর কেমিক্যাল

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজার এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে দুটি কারখানার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব কারখানায় নিম্নমানের উপকরণ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

সোমবার (২৫ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঙ্গালহালিয়া বাজারের রাইস মিল সংলগ্ন এবং পুরাতন সিনেমা হলের বান্দরবান সড়কের ব্রিজের পাশে অবস্থিত কারখানা দুটিতে নেই কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি (বিএফএসএ) নিবন্ধন, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র গ্রহণ করেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাগুলোতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছে।

আইসক্রিম তৈরির কাজে ব্যবহৃত ট্রে ও যন্ত্রপাতিতে মরিচা পড়েছে, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

এছাড়া আইসক্রিমে স্যাকারিনসহ বিভিন্ন কৃত্রিম রাসায়নিক ও রং ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আইসক্রিম একটি দুগ্ধজাত খাদ্য হওয়ায় এর মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

তারা জানান, নিম্নমানের কেমিক্যাল ও স্যাকারিন ব্যবহার মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, “দীর্ঘদিন ধরে এসব কারখানায় আইসক্রিম তৈরি হচ্ছে। এর আগেও প্রশাসন জরিমানা করেছে।

তারপরও তারা কোনো নিয়মনীতি মানছে না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব আইসক্রিম শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।”

স্থানীয় বাসিন্দা চানুপ্রু মারমা বলেন, “পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছে।

এসব আইসক্রিম রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা যেমন—নাক্যাছড়া, গবাছড়া, কদমছড়া ১০ মাইল, ইসলামপুর, শফিপুর, রাজস্থলী বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা রং, স্যাকারিন ও বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করে আইসক্রিম উৎপাদন করছে।”

অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক সুনিল বাবু বলেন, “বর্তমানে আমার কাছে সব ধরনের অনুমোদনপত্র নেই।

তবে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করবো।” তবে আইসক্রিমে স্যাকারিন ব্যবহারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান বলেন, “আইসক্রিমে স্যাকারিন বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আমরা আগেও এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনরায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ও অনুমোদনহীন এসব কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।