কাচালং মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯১ ব্যাচের ২য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত


ওমর ফারুক সুমন    |    ০৯:৩৯ পিএম, ২০২৬-০৫-৩০

কাচালং মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯১ ব্যাচের ২য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

বন্ধুত্বের বন্ধনে, প্রাণের স্পন্দনে” এই প্রাণবন্ত প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাচালং মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯১ ব্যাচের ২য় পুনর্মিলনী-২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) উপজেলার স্থানীয় জনপ্রিয় ভেন্যু ‘কুটুম বাড়ি রেস্টুরেন্ট’-এ আয়োজিত এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘদিন পর এক ছাদের নিচে সহপাঠীদের মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন, আনন্দময় ও স্মৃতিময় এক অনন্য পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ পর্ব এবং বিদ্যালয় জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রাণবন্ত আলাপচারিতা।

বক্তারা বলেন, জীবনের ব্যস্ততা ও সময়ের ব্যবধানে অনেকেই একে অপরের থেকে দূরে সরে গেলেও এমন আয়োজন পুরোনো বন্ধুত্বকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও অর্থবহ করে তোলে।

পুনর্মিলনীর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠ কাচালং মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

এ সময় তারা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন। বিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণ যেন তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় কৈশোরের সেই সোনালি দিনে।

পুরোনো স্মৃতি রোমন্থনের পাশাপাশি তারা বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতির খোঁজখবর নেন।

অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে প্রয়াত সহপাঠীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতার সেই ক্ষণে উপস্থিত অনেকেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।

বক্তারা বলেন, আজ যারা আমাদের মাঝে নেই, তারাও এই ব্যাচের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের স্মৃতি, বন্ধুত্ব এবং অবদান সহপাঠীদের হৃদয়ে চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে।

দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ছিল দলীয় ও স্মারক ছবি তোলা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, হাস্যরসপূর্ণ আড্ডা এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন।

পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনন্য প্রকাশ।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্মিলনী আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

বন্ধুত্ব, স্মৃতি, আবেগ ও ভালোবাসার এক অনবদ্য মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এ পুনর্মিলনী প্রমাণ করেছে—সময়ের ব্যবধান যত দীর্ঘই হোক না কেন, সত্যিকারের বন্ধুত্ব কখনো ম্লান হয় না; বরং সময়ের সঙ্গে আরও গভীর ও দৃঢ় হয়ে ওঠে।