শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগের পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান


আলমগীর মানিক    |    ০১:১১ পিএম, ২০২৬-০৬-০১

শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগের পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

আলমগীর মানিক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।

সংশ্লিষ্ট্য সূত্র জানায়, আজ সোমবার (১ জুন) বেলা ১১ টার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন দীপেন দেওয়ান। 

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন দীপেন দেওয়ান। এ অবস্থায় চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আলোচনা চলছে। তবে সরকার বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে পার্বত্য রাঙামাটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দীপেন দেওয়ান। নির্বাচনে তিনি রেকর্ড ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেন। ২১৩টি কেন্দ্রে তিনি মোট ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা পান ৩০ হাজার ৯৯২ ভোট।

নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন লাভের পর তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৬৩ সালের ৮ জুন রাঙামাটির রাঙ্গাপানি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন দীপেন দেওয়ান। তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

দীপেন দেওয়ানের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।