বিজিবির বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ৩৭ বিজিবি


গোলামুর রহমান-লংগদু    |    ০৮:৩৪ পিএম, ২০২৬-০৬-০৬

বিজিবির বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ৩৭ বিজিবি

রাঙামাটি, ৬ জুন: রাঙামাটির লংগদু উপজেলার রাজনগর ব্যাটালিয়ন (৩৭ বিজিবি)-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি উত্থাপিত ভূমি দখল ও আদালতের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গত শুক্রবার (৫ জুন) রাঙামাটি শহরের কোর্ট হিল এলাকায় অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদারের চেম্বারে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে ৩৭ বিজিবির বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাজনগর ব্যাটালিয়ন ১৯৯৪ সালের ১৬ জুলাই বর্তমান স্থানে স্থাপিত হয়।

ব্যাটালিয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের জবরদখল বা অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি নেই।

বিজিবি আরও জানায়, অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে ১৫০ একর জমি দখল এবং ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং তথ্যবিহীন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও বিতরণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলএ শাখা)। এ প্রক্রিয়ায় বিজিবির কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।

সংস্থাটি জানায়, সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত মোট ৮৫ দশমিক ৫৫ একর জমির মধ্যে ৭৫ দশমিক ৭৫ একর জমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাই শেষে ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর খাস জমি হিসেবে প্রত্যয়ন করেন।

বাকি ৯ দশমিক ৮০ একর জমি, যা ১৪ জন ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল, ২০০৭ সালের ১১ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ৩৭ বিজিবির অনুকূলে আইনগতভাবে অধিগ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ মালিককে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

বিজিবির দাবি, ক্ষতিপূরণ প্রদানের সকল প্রমাণ, গ্রহণ রশিদ, ব্যাংক চেক নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে।

এছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর এলাকার ভেতরে অভিযোগকারী ব্যক্তিদের কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, স্থাপনা কিংবা ফলজ ও বনজ গাছ নেই বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হেডম্যানদের প্রত্যয়নপত্রও রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত ১৪ জন মালিকের মধ্যে আয়েশা বেগম নামে একজন মালিক ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি রাঙামাটির যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ক্ষতিপূরণ গ্রহণকারী কিছু ব্যক্তি পরবর্তীতে ভিন্ন দাবি উত্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।

এ ধরনের অভিযোগের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি বিজিবির বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনগর জোন, ৩৭ বিজিবি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে আসছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে অবদান রেখে যাচ্ছে।

একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজিবিকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।

বিজিবি সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ জানায়।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।