সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারে রাঙামাটির ৪১ বিএনপি নেতাকে ঢাকায় ডেকেছেন মীর হেলাল


আলমগীর মানিক    |    ১১:৪২ পিএম, ২০২৬-০৬-০৭

সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারে রাঙামাটির ৪১ বিএনপি নেতাকে ঢাকায় ডেকেছেন মীর হেলাল

রাঙামাটির বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, তৃণমূলের সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে রাঙামাটি জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির মোট ৪১ জন নেতা অংশ নেবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (নির্ধারিত তারিখ) সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে রাঙামাটি জেলা বিএনপির শীর্ষ পাঁচ নেতা অর্থাৎ সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এছাড়া জেলার ১০টি উপজেলা বিএনপি ও দুটি পৌর বিএনপির প্রতিটি ইউনিট থেকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদককে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের মোট ৪১ জন নেতা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

তবে দলীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও সদ্য পদত্যাগী মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-উপজাতিবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান এবং সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, রাঙামাটির বিভিন্ন সাংগঠনিক ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে নেতারা তার সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান থাকায় তার পক্ষে রাঙামাটি সফর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট নেতারাই ঢাকায় এসে মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে ব্যারিস্টার মীর হেলাল জেলার শীর্ষ পাঁচ নেতা এবং উপজেলা ও পৌর ইউনিটের শীর্ষ তিন নেতাকে নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন।

তিনি বলেন, সভায় উপস্থিত হওয়ার পরই আলোচনার বিস্তারিত বিষয় জানা যাবে। তবে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, দলের একটি অংশ এ বৈঠক নিয়ে ভিন্নমতও প্রকাশ করেছে।

বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম পনির বলেন, রাঙামাটির নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাদ দিয়ে পৃথকভাবে এ ধরনের সভা আয়োজন করা হলে তা দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাঁর মতে, এতসংখ্যক নেতাকে ঢাকায় ডাকার পরিবর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নিজেই রাঙামাটি সফর করলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরও কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হতো।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে রাঙামাটির বিএনপি নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠক দলটির স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনার দিকে এখন নজর রাখছেন জেলার নেতাকর্মীরা।