রাবিপ্রবিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত


আলমগীর মানিক    |    ১১:১৭ পিএম, ২০২৬-০৬-০৮

রাবিপ্রবিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবির উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক ও সহকারী অধ্যাপক সাদ্দাম হোসেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক মো. নাফিজ মণ্ডল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করে ১৯৮১ সালে শাহাদাৎ বরণ পর্যন্ত মাত্র ৪৫ বছরের জীবনে জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

তিনি জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিল্প, শিক্ষা ও গণশিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে একজন জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।

উপাচার্য আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্য ঘাটতিপূর্ণ বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে সবুজ বিপ্লব ঘটাতে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর এ উদ্যোগ দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রজীবনেও তিনি এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪৫ বছর আগে কতিপয় দুষ্কৃতকারীর হাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনো সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, যেকোনো অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের আলোকে হওয়াই সমীচীন এবং এটি প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার।

বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম ফ্রেজারের দেওয়া শোকবার্তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

সেখানে জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা, কঠোর পরিশ্রম, সততা, কৃষি উন্নয়ন এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে তাঁর অবদানের প্রশংসা করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপাচার্য বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণেও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তিনি তাঁর আদর্শ, সততা এবং দেশপ্রেম থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

অন্যান্য বক্তারাও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুনাইদ কবির বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সৎ নেতৃত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

তিনি বহুদলীয় মতাদর্শকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐক্য গঠন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর আদর্শ ও দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রক্টর, পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।