নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১০:১৩ পিএম, ২০২৬-০৬-০৯

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের মৃত্যু

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবদুল খালেক (৩০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রেজু আমতলী এলাকার ৪০ নম্বর সীমান্ত পিলারের পশ্চিম পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবদুল খালেক কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ব্লক-সি এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোহাম্মদ আনু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আবদুল খালেক সীমান্তসংলগ্ন একটি গাছবাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

দ্রুত উদ্ধার করে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতায় তার দুই পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া বাঁ পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণটি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৭০০ গজ ভেতরে ঘটেছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই সীমান্ত এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ মে ভালুকিয়াপাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় বাগানে কাজ করার সময় মাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন।

এছাড়া ২ জুন বাইশফাঁড়িপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিস্ফোরণে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য বিস্ফোরক ও মাইনের ঝুঁকি নিরূপণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।