সাজেকে হলুদের তিন গুদামে অগ্নিসংযোগ, কৃষকের ৭ লাখ টাকার ক্ষতি


আলমগীর মানিক    |    ০৯:২২ পিএম, ২০২৬-০৬-১০

সাজেকে হলুদের তিন গুদামে অগ্নিসংযোগ, কৃষকের ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের মিঠুন জয় ত্রিপুরা কার্বারীপাড়া এলাকায় হলুদ সংরক্ষণের তিনটি গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে গুদামগুলোতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এতে কৃষকদের মজুদ করা বিপুল পরিমাণ হলুদ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বুধবার (১০ জুন) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মিঠুন জয় ত্রিপুরা, কাটি কুমার ত্রিপুরা ও লোবিন ত্রিপুরাসহ স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।

তাদের দাবি, গুদামগুলোতে সংরক্ষিত প্রায় এক হাজার মণের বেশি হলুদ আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত হলুদ দীর্ঘদিন ধরে এসব গুদামে মজুদ রাখা হয়েছিল।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু হঠাৎ আগুনের ঘটনায় কৃষকদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মিঠুন জয় ত্রিপুরা বলেন, “অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করে আমরা হলুদ উৎপাদন করেছি।

ভালো দামের আশায় গুদামে সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম। কিন্তু ভোররাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে সবকিছু পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সাধারণ কৃষক। কৃষিকাজের ওপরই আমাদের পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে। এই ক্ষতির কারণে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছি।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। সাজেক থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

প্রাথমিকভাবে এটি পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এমন ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়, বরং জীবিকা ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।