পাহাড় জয় করে বিভাগসেরা উচাইমা, এবার লক্ষ্য জাতীয় পদক


আলমগীর মানিক    |    ০৭:১৭ পিএম, ২০২৬-০৬-১১

পাহাড় জয় করে বিভাগসেরা উচাইমা, এবার লক্ষ্য জাতীয় পদক

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে একের পর এক সাফল্যের ধাপ অতিক্রম করে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে রাঙামাটির কাউখালীর খুদে শিক্ষার্থী উচাইমা মারমা। ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’-এর অঙ্ক দৌড় ইভেন্টে চট্টগ্রাম বিভাগের সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে এখন জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে সে।

উচাইমা মারমা রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার সাপমাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার এই অর্জনের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং মেধার ধারাবাহিক প্রমাণ।

প্রতিযোগিতার শুরুতে উপজেলা পর্যায়ে অংশ নিয়ে কাউখালী উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে উচাইমা। এরপর জেলা পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রাঙামাটি জেলার সেরার মুকুট জিতে নেয়। সর্বশেষ চট্টগ্রাম পিটিআইয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করে সে।

বিভাগীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের পর এবার জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে উচাইমা। আগামী ১৫ জুন চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সে। পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই শিক্ষার্থীর সাফল্য এখন পুরো জেলার মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর অঙ্ক দৌড় ইভেন্টে চট্টগ্রাম বিভাগের সেরার মুকুট জয় করেছে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার শিক্ষার্থী উচাইমা মারমা। দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা এই ছোট্ট শিক্ষার্থীর অর্জন কাউখালী উপজেলাকে যেমন গর্বিত করেছে, তেমনি জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা হওয়ার লড়াইয়েও সে সফল হবে বলে আমরা আশাবাদী। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার জন্য শুভকামনা রইল।”

সাপমাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংসিনু মারমা বলেন, “উচাইমার এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এটি। আমরা আশা করছি জাতীয় পর্যায়েও সে কৃতিত্বের সঙ্গে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করবে এবং বিদ্যালয়, কাউখালী উপজেলা ও রাঙামাটির মুখ উজ্জ্বল করবে।”

উচাইমা মারমার এই সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ পুরো কাউখালী উপজেলায় আনন্দের আবহ বিরাজ করছে। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের শিশুদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।