জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজস্থলীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


আজগর আলী খান    |    ০৪:৫৫ পিএম, ২০২৬-০৬-১৪

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজস্থলীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় যুবসমাজকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে "ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল বাংলাদেশ" প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) রাজস্থলী উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজস্থলী উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে শুধু একটি বৈশ্বিক ইস্যু নয়, বরং এটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা, পাহাড়ধস, পানির সংকট এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়েও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার চর্চা বৃদ্ধি করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রিয় রতন চাকমা, বাজার চৌধুরী শাক্য মিত্র তঞ্চঙ্গ্যা, সমাজসেবা কর্মকর্তা লিজা চাকমা, তাওহিদুল ইসলাম, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অফিসার অ্যানিকা তঞ্চঙ্গ্যা, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড লিয়াজোঁ অফিসার থোয়াই সিং নু মারমা এবং সাংবাদিক হাবীবুল্লাহ মিজবা।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব তুলে ধরে বলেন, এর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষ করে নিরাপদ পানির সংকট, পানিবাহিত রোগের বিস্তার, অপুষ্টি এবং স্যানিটেশন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা তরুণদের সম্পৃক্ততার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বের ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে যুবসমাজ একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা মতামত ব্যক্ত করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পাহাড় ও বনাঞ্চল সংরক্ষণ, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অংশগ্রহণভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।