রাজস্থলীতে ৫০ খামারিকে প্রশিক্ষণ, বিতরণ করা হলো ১,৫০০ মুরগি


রাজস্থলী প্রতিনিধি    |    ০৯:৫৯ পিএম, ২০২৬-০৬-১৬

রাজস্থলীতে ৫০ খামারিকে প্রশিক্ষণ, বিতরণ করা হলো ১,৫০০ মুরগি

পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় ৫০ জন খামারিকে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান ও ১ হাজার ৫০০টি মুরগি বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাজস্থলী উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, রাজস্থলী।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘৩ পার্বত্য জেলায় সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গাইন্ধ্যা ইউনিয়নের ২৫ জন এবং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ২৫ জনসহ মোট ৫০ জন খামারি অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী খামারিদের আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও লাভজনক পদ্ধতিতে মুরগি পালনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।

বিশেষ করে মুরগির রোগ প্রতিরোধ, সময়মতো টিকাদান, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খামারের পরিচর্যা, উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্যিকভাবে খামার পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আবু সাদাত মো. সায়েম। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের খামারিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি খামারিরা অধিক লাভবান হতে পারবেন।

তিনি খামারিদের প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. নজরুল ইসলাম, ডা. মো. নোমান, ডা. মো. শরিফুল ইসলাম এবং কল্পনা চাকমা।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী ৫০ জন খামারির প্রত্যেককে ৩০টি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি মুরগি বিতরণ করা হয়।

আয়োজকদের মতে, এ সহায়তা খামারিদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য এলাকার প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও টেকসই করে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তাদের মতে, সরকারি সহায়তা ও খামারিদের আন্তরিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে পার্বত্য অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ খাত নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।