বাঘাইহাট সেনা জোনের উদ্যোগে তিন লক্ষ বৃক্ষরোপণের মহাকর্মসূচি শুরু


ওমর ফারুক সুমন    |    ০৮:০৩ পিএম, ২০২৬-০৬-১৭

বাঘাইহাট সেনা জোনের উদ্যোগে তিন লক্ষ বৃক্ষরোপণের মহাকর্মসূচি শুরু

পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমিক্ষয় রোধ এবং পাহাড়ি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট সেনা জোনের ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৫ নম্বর বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী এলাকায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

কর্মসূচির প্রথম দিনে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

পর্যায়ক্রমে এ বৃক্ষরোপণ অভিযান সাজেক ও রূপকারী ইউনিয়নেও পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঘাইহাট জোনের তত্ত্বাবধানে বছরব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মসূচির আওতায় মোট তিন লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত সবাই পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাঘাইহাট সেনা জোনের জোন কমান্ডার বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যায়ও এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় বৃক্ষরোপণ শুধু সবুজায়ন বৃদ্ধি করে না, বরং ভূমিধস প্রতিরোধ, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, জলাধার সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে বনভূমি সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জোন কমান্ডার আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অন্যান্য এলাকার ন্যায় বাঘাইছড়ি অঞ্চলেও এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন এবং রোপণকৃত চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে একটি সবুজ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বছরব্যাপী চলমান এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক সবুজায়ন সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।

একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে এ উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।