সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সাজেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হলো ৫ দফা সিদ্ধান্ত


ওমর ফারুক সুমন    |    ১২:৩৬ এএম, ২০২৬-০৬-২৫

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সাজেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হলো ৫ দফা সিদ্ধান্ত

পার্বত্য চট্টগ্রামে “শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন” এই মূলনীতি ধারণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে এক মতবিনিময় সভা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সাজেক পর্যটন এলাকার বিভিন্ন রিসোর্ট, কটেজ, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সভায় পর্যটন এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পর্যটকদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রতিটি রিসোর্ট, দোকান ও রেস্টুরেন্টের আশপাশ প্লাস্টিকমুক্ত রাখার বিষয়ে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় আবর্জনা, পচনশীল বর্জ্য এবং প্লাস্টিকজাত বর্জ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ ও অপসারণের লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি দোকান, রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্টের সামনে বাধ্যতামূলকভাবে দুটি ডাস্টবিন স্থাপন করতে হবে।

এর মধ্যে একটিতে প্লাস্টিকজাত বর্জ্য এবং অন্যটিতে পচনশীল বর্জ্য রাখা হবে। এছাড়া নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও ময়লা-আবর্জনা বা প্লাস্টিকের বোতল ফেলা যাবে না।

পর্যটন এলাকার সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতি বুধবার বিকেল ৩টা থেকে কংলাক এলাকা হতে সাজেক পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ অভিযানে প্রতিটি দোকান, রেস্টুরেন্ট, কটেজ ও রিসোর্ট থেকে অন্তত একজন প্রতিনিধি বাধ্যতামূলকভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

সভায় আরও জানানো হয় যে, সাজেক ভ্যালিতে বর্তমানে প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বা শোধনাগারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সংগৃহীত প্লাস্টিকজাত বর্জ্য সেনাবাহিনীর সাজেক টিওবি (TOB) ক্যাম্প কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে বাঘাইহাট জোনের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে পাঠানো হবে, যেখানে যথাযথভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপস্থিত ব্যবসায়ী, রিসোর্ট মালিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা বলেন, সাজেক দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আশা প্রকাশ করেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ ধরনের সচেতনতামূলক ও বাস্তবধর্মী কার্যক্রম সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের মতে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সাজেককে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।