কোতোয়ালী থানার তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার নিখোঁজ মারমা তরুণী


আলমগীর মানিক    |    ১২:৫২ এএম, ২০২৬-০৬-২৫

কোতোয়ালী থানার তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার নিখোঁজ মারমা তরুণী

রাঙ্গামাটি জেলার কোতোয়ালী থানার দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানের ফলে নিখোঁজ হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হয়েছেন উচিনু মারমা (১৯) নামে এক তরুণী।

পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে স্বস্তি ফিরে আসে স্বজনদের মাঝে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে উচিনু মারমা, পিতা অংসাজ্ঞো মারমা ও মাতা উক্রঞ্চা মারমা, সাং- ধনপাতা, জীবতলী, থানা- রাঙ্গামাটি সদর, জেলা- রাঙ্গামাটি, তার বোনের কোতোয়ালী থানাধীন তবলছড়ি এলাকার বাসা থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে যান।

যাওয়ার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে রেখে যান। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

এ ঘটনায় তার পিতা অংসাজ্ঞো মারমা কোতোয়ালী থানায় উপস্থিত হয়ে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেন।

আবেদনের প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী থানার ডিউটি অফিসার জিডি নং-১২৪২, তারিখ ২৩/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মূলে বিষয়টি নথিভুক্ত করেন এবং দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

জিডি নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই কোতোয়ালী থানার এসআই (নিরস্ত্র) সজল কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যেই নিখোঁজ তরুণীর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উচিনু মারমাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর তাকে নিরাপদে কোতোয়ালী থানায় আনা হয় এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

পরে তার পিতা অংসাজ্ঞো মারমা থানায় উপস্থিত হয়ে মেয়েকে বুঝে পান এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি পূর্বে দায়ের করা নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোতোয়ালী থানার জিডি নং-১২৯৭, তারিখ ২৪/০৬/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ মূলে সাধারণ ডায়েরিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

বর্তমানে উদ্ধারকৃত উচিনু মারমা তার পিতা অংসাজ্ঞো মারমার হেফাজতে রয়েছেন এবং সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল কোতোয়ালী থানার দ্রুত পদক্ষেপ, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং পেশাদার তদন্ত কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।

পুলিশের এমন তৎপরতায় একটি পরিবার যেমন স্বস্তি ফিরে পেয়েছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের ইতিবাচক দৃষ্টান্তও স্থাপিত হয়েছে।