রাজস্থলীতে জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই অভিযোজন বিষয়ে আলোচনা সভা


আজগর আলী খান    |    ০১:১১ এএম, ২০২৬-০৬-২৬

রাজস্থলীতে জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই অভিযোজন বিষয়ে আলোচনা সভা

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে রাজস্থলী উপজেলা মডেল মসজিদের সম্মেলন কক্ষে কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি-লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CORLIA) প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের উপজেলা কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স ফ্যাসিলিটেটর শেকি লেনিনা চাকমা এবং টেকনিক্যাল অফিসার শিখা চাকমা যৌথভাবে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নেমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুবজ্জামান রাজু, রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খান, গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমা, ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সুমন খান, ইউপি সদস্য কামাল, মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি চিংনু মারমাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ, কারবারি, জনপ্রতিনিধি এবং পাড়া কর্মীরা।

সভায় বক্তারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কৃষি, প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোজনমূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, জীবিকা উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষ করে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপর তারা সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় জনগণের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।

তারা বলেন, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বাস্তবমুখী উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে পাহাড়ি অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সভায় CORLIA প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত অতিথিরা স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু অভিযোজন এবং নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তাদের মতে, জনগণকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি একটি সহনশীল ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।