পার্বত্য উন্নয়নে নতুন রূপরেখা দিলেন মীর হেলাল


আলমগীর মানিক    |    ১০:৩৫ পিএম, ২০২৬-০৬-২৭

পার্বত্য উন্নয়নে নতুন রূপরেখা দিলেন মীর হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রামকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটমুক্ত একটি উন্নয়নশীল অঞ্চলে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, অতীতে তিন পার্বত্য জেলায় যে ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ছিল, বর্তমান সরকারের আমলে তা আর চলতে দেওয়া হবে না।

শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে তিন দিনব্যাপী ‘পাহাড়ি ফল মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ছিল “পাহাড়ী ফলের ঘ্রাণ, বৈচিত্র্যময় প্রাণ”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালির সম্মিলিত সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে একটি ‘রংধনু জাতি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই ঐক্য ও সম্প্রীতিকে আরও শক্তিশালী করে পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতীতে ছোট ছোট অসংখ্য প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেগুলো বাস্তব উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি। ভবিষ্যতে গবেষণাভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে মীর হেলাল জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে কন্যাশিক্ষার্থী, প্রসূতি মা ও প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় নারীদের জন্য একটি করে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষা খাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে ই-লার্নিংভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

দুর্গম এলাকার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উপরিভাগের পানির উৎস ব্যবহার করে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি কৃষকদের উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য পরিবেশবান্ধব মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। অবিক্রিত ফল প্রক্রিয়াজাত করে ড্রাই ফুড তৈরি এবং দেশ-বিদেশের বাজারে বিপণনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উচ্চমানের পার্বত্য কফি চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা ও জুমচাষিদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়ন এবং তিন পার্বত্য জেলায় ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাঙামাটিতে একটি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং তিন জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২৯ জুন পর্যন্ত চলবে তিন দিনব্যাপী এই ফলমেলা। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির দুর্গম এলাকা থেকে আসা ৩০টি স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে আম, আনারস, কাঁঠাল, কলাসহ রাম্বুটান, রক্তফল (রসকো), বুনোবেলের মতো বিভিন্ন কেমিক্যালমুক্ত পাহাড়ি ফল।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।