দুর্গম ও পশ্চাদপদ এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: দীপেন দেওয়ান এমপি


আলমগীর মানিক    |    ০৮:১৬ পিএম, ২০২৬-০৭-০২

দুর্গম ও পশ্চাদপদ এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: দীপেন দেওয়ান এমপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেছেন, শহর এলাকার পাশাপাশি দুর্গম ও পশ্চাদপদ অঞ্চলের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্নয়নের সুফল থেকে যেন কোনো মানুষ বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলার সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বাস্তবভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় এলজিইডি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা জেলার চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

সভায় রাঙ্গামাটি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুরিত কুমার চাকমা জানান, জেলার ১০টি উপজেলার কোনোটিতেই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বড়ুয়া জানান, রাঙ্গামাটি শহরের পানি সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাজেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাও থাকবে।

রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন কলেজ ক্যাম্পাসের মাঝখান দিয়ে সড়ক চলে যাওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্গম উপজেলাগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতে আরও ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বনভূমির ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের আগে বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানান।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

সভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে উপজেলাগুলোতে ডরমিটরি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধান হয়।

এদিকে সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা জানান, বিলাইছড়িসহ দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।