করেঙ্গাতলীতে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুই ব্যক্তি


ওমর ফারুক সুমন    |    ১১:২১ পিএম, ২০২৬-০৭-০৩

করেঙ্গাতলীতে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুই ব্যক্তি

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৫ নম্বর বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী বাজার সংলগ্ন ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে উত্তম ও অরুণ নামে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।

বর্তমানে তারা বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদ্যুতের খুঁটিতে কাজ শুরুর আগে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে প্রধান (মেইন) বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রাখার জন্য আবেদন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর তারা বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে কাজ শুরু করেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ মেইন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়ে গেলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে একজন পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক রাজস্ব কর্মকর্তা সুগত চাকমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী আখিনু চাকমা জানান, মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের মেইন লাইন দিঘীনালা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

তিনি বলেন, “উত্তম ও অরুণ কাজের জন্য মেইন লাইন বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

আমি মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে করেঙ্গাতলী বাজারের বিদ্যুৎ লাইন বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করি।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার আগেই তারা বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে কাজ শুরু করেন। এ সময় দিঘীনালা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের মেইন লাইন পুনরায় চালু করা হয়।

এর ফলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন।”

ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।