মেহেদী হাসান | ০৫:৪০ পিএম, ২০২৬-০৭-০৮
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটিতে আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো পাহাড়ধস, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া এবং সড়ক তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। ২০১৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের স্মৃতি সামনে রেখে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯০ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘অতিভারী’ বর্ষণের মধ্যে পড়ে। অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইতোমধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় থেকে পড়ে আসা একটি গাছের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা এবং সড়ক তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় পুরো জেলায় ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি শহরে রয়েছে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বলেন, একটি মানুষেরও যেন প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সরকারি হিসাবে জেলায় ১০০টিরও বেশি এলাকা পাহাড়ধসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি এলাকা রাঙামাটি শহরে। রূপনগর, শিমুলতলী ও মুসলিমপাড়াসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অন্তত ২১০ জন বাসিন্দা ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া নুর জাহান বেগম বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে ঘরের খুঁটি নড়ে গেছে। তাই নাতিকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছি।
একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মো. শুক্কুর জানান, রাতভর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে আসেন তিনি।
এদিকে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজীব হোসেন জানান, উপজেলার ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সোমবার সকাল থেকে মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় সরে না এলে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। সম্ভাব্য পাহাড়ধস মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন টানা ভারী বর্ষণের ফলে রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। একই সময়ে কাউখালী উপজেলায় পাহাড়ধসে নিহত হন ২১ জন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের ...বিস্তারিত
সোহেল রানা : রাঙামাটি শহরে অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪টি মামলার পলাতক এক শীর্ষ আসামিসহ মোট আটজনকে গ্র...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিনে হামে আক...বিস্তারিত
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট প্রোজ্জল চাকমা আবারও বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্...বিস্তারিত
নাজিম আল হাসান : রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদমে ভাসান্যাদম গাউছিয়া তৈয়বিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদর...বিস্তারিত
নানিয়ারচর প্রতিনিধি : পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ, বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited