বন্যার্তদের পাশে মারিশ্যা জোন, ৬ শতাধিক মানুষ পেল খাবার ও চিকিৎসাসেবা


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০৯:৪৪ পিএম, ২০২৬-০৭-১২

বন্যার্তদের পাশে মারিশ্যা জোন, ৬ শতাধিক মানুষ পেল খাবার ও চিকিৎসাসেবা

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রায় ১৫০টি পরিবারের ছয় শতাধিক বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে রান্না করা উন্নতমানের খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫০ জন অসুস্থ ব্যক্তিকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) মারিশ্যা জোনের উদ্যোগে জোন কমান্ডারের নেতৃত্বে বাঘাইছড়ি উপজেলার বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা, আয়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে এ মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বন্যার কারণে খাদ্যসংকটে পড়া মানুষের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় বিজিবির সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে খাদ্য বিতরণ করেন। এ সময় নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে খাবার ও সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া হয়।

সহায়তা কার্যক্রম চলাকালে মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি সবাইকে পানি বাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং আশ্বস্ত করেন, সংকটময় সময়ে বিজিবি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।

এদিকে মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে বিজিবির মেডিকেল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা, এএমসি-এর নেতৃত্বে একটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হয়। সেখানে প্রায় ২৫০ জন অসুস্থ রোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হয়।

জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মারিশ্যা জোন নিয়মিত খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসাসেবা, বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পানিবন্দী মানুষের খোঁজখবর গ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।