দুই দফা বন্যার তাণ্ডবে ধ্বংসস্তূপ ফারুয়া বাজার: প্রাণহানি ও কোটি টাকার ক্ষতি, বিপন্ন শতাধিক ব্যবসায়ী


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০১:৩৮ এএম, ২০২৬-০৭-১৩

দুই দফা বন্যার তাণ্ডবে ধ্বংসস্তূপ ফারুয়া বাজার: প্রাণহানি ও কোটি টাকার ক্ষতি, বিপন্ন শতাধিক ব্যবসায়ী

প্রকৃতির এক নির্মম ও প্রলয়ঙ্কারী রূপ দেখল ফারুয়া বাজার এলাকা। পরপর দুই দফা বন্যার ভয়াবহ ছোবলে পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পুরো এলাকা। গত ৭ জুলাই প্রথম দফায় বাজারটি আকস্মিক বন্যায় ডুবে যাওয়ার পর, সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই মাত্র তিন দিনের মাথায়, গত ১০ জুলাই আবারও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয় পুরো এলাকা।

​স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই ভয়াবহ দুর্যোগে ফারুয়া বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকান ঘর সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানগুলোতে থাকা কোটি কোটি টাকার মালামাল বন্যার তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে অথবা পানিতে ভিজে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। হঠাৎ নেমে আসা এই বিপর্যয়ে বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা এক চরম অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং মানবিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন।

​এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জুলাই। বন্যার পানিতে পড়ে ফারুয়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ বদিউল আলম মারা যান। তাঁর এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি ও বাসিন্দারা এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

​সরেজমিনে ফারুয়া বাজারের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। বন্যার তীব্রতায় নদীর পাড় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একের পর এক দোকান ঘর ধসে পড়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বাজারের ভেতর এখন কেবলই থিকথিকে কাদা আর ধ্বংসস্তূপের স্তূপ। বন্যার প্রচণ্ড বেগে দোকান ঘরের টিন ও কাঠ ভেঙে চুরমার হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কেবল কঙ্কালসার অবশেষটুকুই এখন অবশিষ্ট আছে।

​এই কঠিন পরিস্থিতি ও মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমিতি এবং সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে উদ্ধার ও সহায়তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সবকিছু হারিয়ে এলাকার অসহায় বাসিন্দারা এখন খোলা আকাশের নিচে চরম অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ফারুয়া বাজারের এই সংকটময় মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং সরকারি-বেসরকারি জরুরি অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।