রাবিপ্রবিতে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন


আলমগীর মানিক    |    ০৭:৫৮ পিএম, ২০২৬-০৪-১০

রাবিপ্রবিতে জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) তত্ত্বাবধানে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান/ইঞ্জিনিয়ারিং) জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একই দিনে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আর্কিটেকচার বিভাগের ব্যবহারিক (ড্রয়িং) পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়।

‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন-১ ও ২ ছাড়াও রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ, রাঙ্গামাটি সরকারি মহিলা কলেজ, রাঙ্গামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মোনঘর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লেকার্স পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভোয়াল্ল্যা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভেদভেদী পৌর উচ্চ বিদ্যালয় এবং শহীদ আব্দুল আলী একাডেমিসহ মোট ১০টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

এ ইউনিটে মোট ৮,২৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫,১১৮ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যা উপস্থিতির হার ৬১.৭৮ শতাংশ।

অনুপস্থিত ছিলেন ৩,১৬৬ জন পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে আর্কিটেকচার ব্যবহারিক পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৩১.৭১ শতাংশ।

পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, জিএসটি পরীক্ষার কো-অর্ডিনেটর ও সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম, ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির ফোকাল পয়েন্ট ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন এবং প্রক্টর ড. মোঃ ফখরুদ্দিন।

পরিদর্শনকালে উপাচার্য দায়িত্বরত প্রধান তত্ত্বাবধায়ক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

একইসঙ্গে ‘এ’ ইউনিটসহ পূর্বে অনুষ্ঠিত ‘বি’ ও ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলো সম্পন্ন হলে শুধু অবকাঠামোগত চাহিদাই পূরণ হবে না, বরং নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, রাবিপ্রবির লেক, পাহাড় ও বনবেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। এখানে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।

শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার জন্য বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন রয়েছে এবং নিয়মিত ফিল্ড ট্রিপ, স্টাডি ট্যুর, কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক সফলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উপাচার্য জানান, “আমরা অত্যন্ত সফলভাবে তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি।

এ পরীক্ষাকে নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাঙ্গামাটি জেলার প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে।”

তিনি সিভিল সার্জন কার্যালয়, পৌরসভা প্রশাসন, পরিবহন মালিক সমিতি, হোটেল মালিক সমিতি, সিএনজি মালিক-শ্রমিক সমিতি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

একইসঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উপাচার্য ভবিষ্যতে রাবিপ্রবিকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।